« পূর্ববর্তী সংবাদ |
 |
¦ |
|
|
| |
যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মিরপুরের শাহ্ আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদের দখল নিয়ে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। একটি সংঘবদ্ধ কুচক্রী মহল তাদের পছন্দের প্রার্থীকে প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদে বসাতে দীর্ঘদিন ধরে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষের শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এরপর থেকেই পদটি দখলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয় ল্যাবএইড হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের জনৈক চিকিৎসকের স্ত্রী রানা ফেরদৌস রত্না।সূত্রে জানা গেছে, এ কাজে সহযোগিতা করছেন অধ্যক্ষ পদের ডামি আবেদনকারী কলেজের একজন দুর্নীতিগ্রস্ত সিনিয়র শিক্ষক।সূত্র মতে, ১৯৯১ সালে ঢাকা মিরপুরের ১ নম্বর সেকশনে প্রতিষ্ঠিত হয় হযরত শাহ্ আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা শিরিন আক্তার চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান। তার শূন্য পদে লোক নিয়োগের জন্য কলেজ পরিচালনা পর্ষদ গত ২৭ জানুয়ারি জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়।বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শূন্য পদে একজন অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের নিকট থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তারিখের মধ্যে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ পদের জন্য আবেদন করেন রানা ফেরদৌস রত্না। বিধি অনুযায়ী, অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। কিন্তু আবেদন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে রত্নার চাকরির অভিজ্ঞতা ১৫ বছর হতে ১৮ দিন বাকি ছিল। ফলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত চাকরির অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারী রত্নার আবেদন বাতিল করা হয়নি। এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তিসহ প্রভাষক অথবা সহকারী অধ্যাপক পদে ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে গণনা করা হবে। কিন্তু রানা ফেরদৌস রত্না এমপিওভুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হন ১৯৯৬ সালের ১ মার্চ । সে হিসেবেও তিনি চাকরিতে আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত নন। তারপরও দুর্নীতিবাজ মহলের চক্রান্তে তার আবেদন পত্র বাতিল হয়নি। বর্তমানে এ মহলটি ওই পদে রত্নাকে নিয়োগ দানের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।কলেজের সূত্র জানিয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যে ধরনের ব্যক্তিত্বের ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় তা রত্নার নেই। এরূপ অশিক্ষক সুলভ মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তির নিকট কলেজের দায়িত্ব দেয়া হলে কলেজের সর্বনাশ ডেকে আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এছাড়া তাকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হলে সংক্ষুব্ধ হয়ে অন্যান্য যোগ্য ও বৈধ প্রার্থীরা কলেজের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। এতে কলেজের আর্থিক ও একাডেমিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।- নিজস্ব প্রতিবেদক