ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মে ২০১১. ২০ বৈশাখ ১৪১৮, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩২

¦

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মহাজোট নিয়ে নতুন নতুন সঙ্কট মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে মহাজোট সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেও মেয়াদের অর্ধেক সময় পার করতে না করতেই নিত্য-নতুন সমস্যা তাকে চেপে ধরেছে। সরকারের সকল কর্মকা- মূলত একব্যক্তি কেন্দ্রিক হওয়ায় প্রতিটি ক্ষেত্রে জটলা বেঁধে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কট, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, রাজধানীর অসহনীয় যানজটসহ জনজীবনের অন্তহীন সমস্যা সমাধানে বলা যায় আ'লীগ সরকার মোটামুটি ব্যর্থ হয়েছে। এসব ইস্যুতে সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে মহাজোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়েছেন।পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ড. ইউনূসকে অপসারণ, সংবিধান সংশোধন, নারীনীতিসহ স্পর্শকাতর ইস্যুতে হাত দিয়ে বেশ বিপাকেই রয়েছে সরকার। এদিকে সরকার আর দল একাকার হয়ে যাওয়ায় সাংগঠনিক স্থবিরতা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে গ্রাস করে ফেলেছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে দলের রাজনৈতিক কর্মকা-। কেবলমাত্র দিবস কেন্দ্রিক কর্মকা-ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল। দিবস কেন্দ্রিক কর্মসূচি সফল করতেও ভাড়াটিয়া লোক আনা হচ্ছে, এমন অভিযোগও দল থেকে এসেছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই ঐতিহ্যবাহী এ দলটিকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হবে বলে দলের সিনিয়র নেতারা আশঙ্কা করছেন। আওয়ামী লীগের বিপর্যস্ত পরিস্থিতির পাশাপাশি মহাজোটেও ভাটার টান লেগেছে। সমন্বয়হীনতা এবং আওয়ামী লীগ কর্তৃক জোটের শরিকদের অবমূল্যায়ন করার কারণে মহাজোট তথা ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গেও দলটির দূরত্ব দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে তেমনটিই মনে হয়। জাপা নেতাদের মতে, মহাজোট এখন একটি জটে পরিণত হয়েছে। এই জট থেকে জাপাকে মুক্ত করতে হবে। দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এরশাদের সকল মামলা প্রত্যাহারের জন্য একদফা দাবিতে মাঠে নামছে জাপা। এরশাদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি পালনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন নেতাকর্মীরা।দলের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে 'কাজী ফিরোজ রশিদে'র সাথে কথা বললে তিনি জানান, 'দলে এখন একটাই দাবি, এরশাদের সকল মামলা প্রত্যাহার। এ ছাড়া আর অন্য কোন বিষয় নিয়ে দল চিন্তা করতে চায়না।' কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজ ফোরামে ও প্রকাশ্য জনসভায় সরকারের ব্যর্থতার কথা বলা হচ্ছে। খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কট, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি এবং মন্ত্রীদের অতিকথনের সমালোচনা আসছে। এরশাদ সংসদ নিয়েও কথা বলেন। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার-এর আমন্ত্রণে চট্টগ্রাম গিয়ে বলেছেন, 'বর্তমান সংসদে কথা বলতে গেলে জেন্টেলম্যান থাকা যায় না। সংসদে বক্তব্য চলাকালে টেলিভিশনের সামনে থেকে মানুষ বাচ্চাদের সরিয়ে দেয়। কারণ, সংসদের বক্তব্য এখন ভদ্রলোকদের শোনার মত নয়। বর্তমান সংসদে মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে টানাহেঁচড়া চলছে। যারা জীবিত নেই তাদের নিয়ে টানাটানি ঠিক নয়।'জাপা'র তৃণমূল নেতৃবৃন্দ স্পষ্টই বলে দিয়েছেন, মহাজোটের ব্যর্থতার দায়ভার জাপা নেবে না। কারণ তাদের সাথে পরামর্শ করে সরকার চালাচ্ছেনা, সরকার চলছে প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগের নেতাদের কথায়। তাই সরকারের সকল ব্যর্থতার দায় আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।নারীনীতি নিয়েও তারা কথা তুলেছেন। এরশাদ বলেন 'দেশে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণসহ অনেক সংকট বিরাজ করছে। এই মুহূর্তে নারীনীতি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন সংকট সৃষ্টি করা দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।' মহাজোটের আরেক শরিক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নারীনীতি বাস্তবায়ন-এর পক্ষাবলম্বন করলেও সরকারের ব্যর্থতার দায় নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। দলটির প্রধান, 'হাসানুল হক ইনু' জাসদ কেন্দ্রীয় অফিসে শহীদ তাজুল মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন 'আ'লীগ মহাজোটের শরিক দলগুলোকে মূল্যায়ন করেনা। তারা তাদের মনের মত করে সরকার পরিচালনা করছে। সরকার দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সকল ব্যর্থতার দায় জাসদ নেবে না।' আ'লীগের ছাত্র সংগঠন-এর চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ সকল নির্যাতনের দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সরকার ঢাকঢোল পিটিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করলেও বছর না যেতেই এতে ভাটা লেগেছে। সরকারের মতে, 'চিহ্নিত' কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর গ্রেফতার ও তদন্ত কমিটির কয়েকটি স্থান পরিদর্শন ছাড়া এতে কোনো অগ্রগতি নেই। বিদেশের প্রভাবশালী গণমাধ্যমও এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।ড. ইউনূসকে অপসারণ, সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়াসহ দোটানায় রয়েছে সরকার। সংবিধান কমিটি গত ১১,১২ ও ১৩ এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী ২৪, ২৫ ও ২৬ এপ্রিল আইনজ্ঞ বা সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন। ২৪ এবং ২৫ তারিখ মহাজোটের শরিক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করলেও ২৬ এপ্রিল বিএনপি কমিটির ডাকে সাড়া দেয়নি। বিএনপি বলছে, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে অগণতান্ত্রিক পন্থায় সংবিধান সংশোধন করছে। এ দলটি সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোট দাবি করছে। তাদের দাবি হাঁ-না ভোট-এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সংবিধান সংশোধন হবে কি না।প্রধানমন্ত্রী ও আ'লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২৭ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনী কমিটির আমন্ত্রণে গিয়ে, ৯০ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ সীমাবদ্ধ রাখাসহ বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ৯০ দিন উত্তীর্ণ হলে পূর্বের সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন, সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন সংরক্ষণ।গত ৭ মার্চ বর্তমান মহাজোট সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ ঘোষণা করেছে। নীতিমালা খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। এ নিয়ে দেশে ৪র্থ বার নারীনীতি ঘোষণা করা হলো। পূর্বে আরো ৩টি নারীনীতি বিভিন্ন সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ, ২০০৪ সালে বিএনপি এবং ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সর্বশেষ ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষণা করে।ধর্মভিত্তিক দলগুলো সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমান অধিকার দেয়ার প্রশ্নে, যা কোরআন বিরোধী এমন দাবি করে নারীনীতি প্রতিহত করার ঘোষণা এবং সরকার পতনেরও হুমকি দিয়ে ৪ এপ্রিল হরতাল পালন করে। সে হরতাল মিছিলকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। শুধুমাত্র সরকার বিরোধী ধর্মভিত্তিক দলগুলোই নয়, মহাজোটের শরিক দাবিদার মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটও এ নীতির বিরোধী। ৪ এপ্রিল ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির ডাকে হরতাল পালনের পর থেকে বাম সংগঠনগুলো এই নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। এদিকে বাম সংগঠন গুলোও এই নারীনীতি প্রত্যাখ্যান করে সভা-সেমিনার এমনকি সংবাদ সম্মেলনও করছেন। তাদের দাবি, নীতি যদি নারী বান্ধব হিসেবে ঘোষণা করতে হয় তাহলে সবার আগে প্রয়োজন সিডও সনদের ২ ও ১৬-১(ক) ধারার উপর থেকে সংরক্ষণ তুলে দেয়া। দেশে বিদ্যমান আইনসমূহ থেকে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক অধ্যায়গুলো বাতিল করা এবং পারিবারিক জীবনে নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করা। যা নতুন নারী উন্নয়ন নীতিতে অনুপস্থিত এবং পূর্বের সকল নারীনীতিতেও অনুপস্থিত ছিল। নীতির প্রাণ যে অধিকারগুলো সেগুলোকে নারীনীতি স্বীকার করেনি। ফলে ঘোষিত নারীনীতি, দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করা এদেশের নারী সমাজ তথা দেশবাসীর সাথে প্রতারণার শামিল। নারীনীতি নিয়ে ইসলামী দল কোরআন বিরোধী বলে প্রত্যাখ্যান এবং এ নীতিতে নারী সমাজের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে বলে বাম সংগঠনগুলো আন্দোলন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ইসলাম বিরোধী কোন আইন সরকার করবে না। এনিয়ে বিভিন্ন সময় দল এবং সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কথা বলা হচ্ছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমিন বলেন, 'নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।' এবার উত্তরাধিকারে সমান অধিকার প্রস্তাব থেকে সরে আসার পরও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, ধর্মীয় আইনের পরিপন্থী কোনো আইন করা হবে না।' কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মী সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, সরকার কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন করেনি, নারীনীতি করেছে। কিন্তু এক শ্রেণীর ধর্মব্যবসায়ী তার অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। আর এদের মদদ দিচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। যশোর ঈদগাহ ময়দানে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির খুলনা বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী বলেছেন, 'কোরআনের বিরোধিতা করার নামই কাফেরি করা। আর যারা কাফেরি করবে তাদের পতন হবে এজিদ বাহিনীর মতো। তার মতে ৪ এপ্রিলের হরতাল প্রমাণ করেছে শেখ হাসিনার সরকার কোরআন সুন্নাহ বিরোধী সরকার; এ সরকারের এদেশের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। সরকারকে এজিদ বাহিনীর সাথে তুলনা করে আমিনী বলেন, এ সরকারের পতন হবে এজিদের মতোই। এদেশে কোরআন বিরোধী কোনো আইন মেনে নেয়া হবে না।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে আমিনী বলেন, 'পাশ্চাত্য সভ্যতা যদি এত ভালো লাগে তবে বাংলাদেশ ছেড়ে ছেলের মতো সেদেশে বসবাস করতে হবে। এদেশের ক্ষমতায় আলেমরা বসেই দেশ চালাতে পারবে। সরকারের চারপাশে বসে যারা নারীনীতি, শিক্ষানীতিসহ কোরআন বিরোধী নীতি তৈরি করছেন তারা ইসলামের পক্ষের শক্তি হতে পারে না। কোরআন বিরোধিতা করার নামই কাফেরি করা। সরকার এ জাতীয় কর্মকা- থেকে বিরত না হলে সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে।'কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী মুফতি ওয়াক্কাস বলেন, 'এ সরকার যে শিক্ষানীতি চালু করতে চায় সে শিক্ষা মুসলমানদেরকে নামাজসহ ধর্মীয় কাজ থেকে দূরে নিয়ে যাবে, দেশ অশ্লীলতায় ভরে উঠবে। ইসলামী আইন মেনে দেশ শাসন করার আহ্বান জানান তিনি।'মহাজোট সরকার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির শিকার হয়। এর মধ্যে বিডিআর বিদ্রোহসহ কয়েকটি ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এর বাইরে বেশকিছু ঘটনা সরকারের ভেতর থেকেই উস্কে দেয়া হয়েছে। একের পর এক এসব কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে সরকার জনজীবনের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। সভা-সেমিনারসহ দলীয় ফোরামের আলোচনায় সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরা হচ্ছে।এসবের মধ্যে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে বিরোধী দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি সরকারকে আরও বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।ব্যর্থতার কারণে সমপ্রতি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান ও খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগের দাবিও করা হয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ একাধিক মন্ত্রীর ব্যর্থতার অভিযোগ করা হয়।গত মাসে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় দল ও সরকারের সমালোচনা করা হয়। ওই বৈঠকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আতিউর রহমান আতিক সরকার ও দলের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, 'আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে আসন পেয়েছিল কম কিন্তু সরকার ছিল শক্তিশালী; আর এবার আসন পেয়েছে অনেক বেশি কিন্তু সরকার অনেক দুর্বল।' শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ফলে সরকারের যে ইমেজ সঙ্কট দেখা দেয় তা পুনরুদ্ধারে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এই কমিটির রিপোর্ট নিয়ে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সরকার মুখোমুখি হয়ে পড়েছে। সরকার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ ব্যবস্থা নেবে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে।অভ্যন্তরীণ কোন্দল এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, সমপ্রতি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের কর্মীরা স্থানীয় সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।এককালের সুসংগঠিত আওয়ামী লীগ আজ কর্মসূচি সফল করতে ভাড়া করে লোক নিয়ে আসে, এমন অভিযোগও উঠেছে। আর এই অভিযোগটা এসেছে দলেরই একটি সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে। গত ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক যৌথসভায় যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী নাজমা আক্তার এমপি বঙ্গবন্ধু কনভেনশন সেন্টারে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভার প্রসঙ্গ টেনে ভাড়ায় লোক আনার অভিযোগ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অনুষ্ঠানে কারা যায় তাদের আমরা চিনি না। অনুষ্ঠানে ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে আসা হয়। তারা সামনের সারির আসনগুলো দখল করে রাখে। আর নির্দিষ্ট একজন নেতা বক্তৃতা দিলেই তারা হাততালি দেয়।এপর্যন্ত সরকার মোটামুটি ভাবে সফল না হলেও মহাজোট সরকারের শেষ বেলায় এসে দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সকল ক্ষেত্রে সফল হবে_ এ আশা জনগণ অবশ্যই করতে পারে।হ



বিশেষ প্রতিবেদন - এর আরো খবর
ডিসিসি'র কচুরিপানা পরিষ্কারের নামে অর্থ লোপাট
টিসিবি কি সচল হবে?
ওরিয়নের আরেক দুর্নীতির নজির
অতিরিক্ত জেলা জজ পদে ১৩ বিচারকের পদোন্নতি কার্যকর হচ্ছে না যে কারণে
সরকার দলীয় ক্যাডার ও অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্যে পিছিয়ে যাচ্ছে সরকারের উন্নয়ন কাজ
তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে নতুন ফর্মুলায় বিতর্ক তুঙ্গে
গৃহায়নের ২৯ প্লট দখলের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ : কমিটি গঠন
পদ্মা সেতুর ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের নামে যা হচ্ছে হাবিবুল্লাহ ফাহাদ
হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধাকে এবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ!
রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে ইমামদের ব্যবহার
দু'টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে রহস্য!
হৃদরোগ হাসপাতালে কর্মচারী নেতাদের দাপট
অবশেষে সচিবালয়ের আলোচিত সুবেদার রাজারবাগে
৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর সমাজ বইয়ে ভুল
পুলিশ পরিদর্শক ওমর ফারুকের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক
সম্ভাবনাময় গ্যাস ক্ষেত্র চলে যেতে পারে বিদেশি কোম্পানির হাতে
ভূমি মতিয়রের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
হোম ¦ শীর্ষ প্রতিবেদন ¦ কড়চা ¦ অপ্রিয় বচন ¦ বিশেষ প্রতিবেদন ¦ সদর-অন্দর ¦ ন্যায়-অন্যায় ¦ মুক্ত মঞ্চ ¦ কাছে দূরে ¦ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ¦ খেলাধুলা ¦ আন্তর্জাতিক ¦ প্রবাস ¦ সুন্দর জীবনের জন্য ¦ রদবদল ¦ জানা-অজানা ¦ সম্পাদকীয়
2011 © Copyright to SheershaNews.Powered By : orangebd