|
 |
¦ |
|
|
| পরবর্তী সংবাদ » |
দেখতে দেখতে অনেকটা বছর হয়ে গেল এ শহরে। দেশ ছেড়ে হাজার হাজার মাইল দূরে এসে প্রিয় মানুষের জন্য হাহাকার বুকের ভেতরটা অনেকখানি জায়গা জুড়ে মাতম করে। স্বজন হারানোর বেদনারা সবসময় আমাকে ছিঁড়ে-খুঁড়ে খায়।লেখালেখি করার অভ্যাস অনেক দিনের। মানবিকতা আর আবেগ দ্বারা এত বেশি তাড়িত হই যে, কখনও কখনও অন্যদের মতো কঠোর হতে পারি না। আর দশজনে যে কাজ নির্বিকারভাবে করতে পারে আমার দ্বারা সেসব হয় না। যে কারণে কোন কাজে আমি খুব বেশি দিন লেগে-চেপে থাকতে পারি না। কাতারে আট বছরের কাজের জীবনে আমি কখনও কোথাও দু'মাসের বেশি কাজ করতে পারিনি। হয়ত মন টেকেনি। হয়ত কাজ করছি কেউ একটু 'ভাব' নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলল_ ব্যস মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। কাজ ছেড়ে দেয়ার আগে চিন্তাও করি না কাল থেকে কি করব। নিজে কি খাব, কিভাবে ঘরভাড়া, নিজের খাওয়া-পরা, কফি-সিগারেটের খরচ মেটাব; তার ওপর মাস শেষে দেশে টাকা পাঠাতে পারব কি না_ এসব জরুরি বিষয়গুলোও ভাবার দরকার বলে মনে করি না। এভাবেই তো চলছে। কেটে যাচ্ছে। আমার এরকম উদ্ভট কার্যকলাপে হয়তো বা অনেকে অবাক হন। ভাবেন, আরে! লোকটা তো ভারি বোকা! আরে বাবা, বিদেশে এসেছো দু'টো টাকা-কড়ি উপার্জনের জন্য নাকি? তাহলে এত অভিমান করে লাভ কি? মাথাগুঁজে, চোখ-মুখ বন্ধ করে কাজ কর, মাস শেষে হাজার হাজার টাকা দেশে পাঠাও। ব্যস। কে কি বলল, হুকুম করল-ওসব দেখার সময় আছে?অন্যদের এরকম ধ্যান-ধারণার সঙ্গে একমত হতে পারিনি। নিজেকে একটু আলাদা করে দেখার চেষ্টা করি। একজন যথার্থ মানুষের পক্ষে এ দেখার চেষ্টা করাটা খুবই জরুরি। মানুষ যদি বেঁচে থাকার সময় আর দশজনের চেয়ে নিজেকে আলাদা করে দেখার চেষ্টাই না করল তবে আর কিসের জীবন! জীবন তো একটাই, নাকি? এই এক জীবনেই সব দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা, পাওয়া-না পাওয়া। লেখালেখি করতে গিয়ে এ বোধগুলো কখন যে বুকের খুব ভেতরে তীব্রভাবে ঢুকে গেছে টেরও পাইনি। অথচ জীবন থেকে কতোটা সময় চলে গেল। কতোটা সময়!- তোহিদুল ইসলাম রকিকাতার থেকে