ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মে ২০১১. ২০ বৈশাখ ১৪১৮, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩২

« পূর্ববর্তী সংবাদ
¦

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পশ্চিম তীরে একটি রাজপথে দাঁড়িয়ে। পথটির নাম মাসার রোড। নামটি এসেছে মাসার ইব্রাহিম আল-খলিলী থেকে। অর্থাৎ ইব্রাহিমের পথ ও আল্লাহর বন্ধু। ছোট্ট করে বলা হয় মাসার। শুধু পশ্চিম তীরে নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এর বিস্তৃতি। এ পথ যুক্ত করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে। শুরু হয়েছে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর জন্মস্থান সানলিরুফা থেকে। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় এই সানলিরুফার অবস্থান। সেখান থেকে শুরু হয়ে রাস্তাটি এক বিশাল পথ পাড়ি দিয়েছে। তুরস্ক থেকে বেরিয়ে সিরিয়া, জর্ডান ও ইসরাইলে গিয়ে মিশেছে। পরিশেষে মক্কায় যেখানে মুসলিম জাহানের সব মানুষের শেষ মিলনস্থল। মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি এই ৩ ধর্মের মানুষকে এক সুতায় বেঁধেছে। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ, বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে নদীর মতো এঁকেবেঁকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পেঁৗছেছে। ধর্ম, মত, বিশ্বাস, আদর্শ ও সংস্কৃতির পার্থক্য ঘুচিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। বেশ কয়েকটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও মাসার রোডের এক বিরাট অবদান রয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এই মাসার রোডের সাথে সংযুক্ত। অর্থনীতির একটি প্রধান খাত পরিবহন। শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য গতিশীল ও দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা অপরিহার্য।মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির অন্যতম যোগসূত্র যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা। সে ক্ষেত্রে মাসার রোডের ভূমিকা বিশাল। খাদ্য-পণ্য ও জন পরিবহন থেকে শুরু করে আরব দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাসার রোড পরম মমতায় পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন শিল্পকেও করেছে শক্তিশালী। আতিথেয়তার জন্য আরবদের সুখ্যাতি রয়েছে। তারা খুবই বন্ধু বৎসল, হাসিখুশি ও অমায়িক। ফিলিস্তিনে এসে আরবদের সেই পরিচিতির প্রমাণ আবারো পেলাম। একজন বিদেশিকে তারা অতি সহজেই কাছে টেনে নিতে পারে। ফিলিস্তিনিরা আরব হলেও ইতিহাস বলছে এরা মূলতঃ যাযাবর বা আরবদের ভাষায় বেদুঈন। একটি ভূখ- পেয়ে আরব বেদুঈনরা স্থিতি পায়। শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তিতে নিজেদেরকে ধীরে ধীরে সম্পৃক্ত করে। রাজনীতি, কূটনীতি, সমাজনীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সার্বিক কার্যক্রমেও জড়িয়ে পড়ে এরা। ধোপদুরস্ত নাগরিক জীবন লাভ করে। সুস্থ, সুন্দর ও পরিশীলিত জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়।পুরো নাম ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। ৬ হাজার ১৬৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তন। ২০০৭ সালের আদমশুমারি অনুসারে জনসংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০ লাখের মধ্যে। এদের মধ্যে ২৫ থেকে ২৮ লাখ ফিলিস্তিনীর নিবাস জর্দানে। জাতিতে এরা আরব। ভাষা আরবী, ইংরেজি ভাষাটাও এরা ভালোই জানে। ৯৭ শতাংশ মুসলিম। বাকি ৩ ভাগ খ্রিস্টান। মুদ্রার নাম শেকেল। এটা ইসরাইলি মুদ্রা। তবে পশ্চিম তীরে জর্দানি মুদ্রা দিনার ব্যবহার হয়ে থাকে।প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো- ফাতাহ, পিএফএলএফ(এফআইডিএ), পিপলস পার্টি, ডিএফএলপি, হামাস। হামাস ছাড়া অন্য সব দল পিএলও'র সদস্য। ফিলিস্তিন আইন পরিষদ (পিএলসি)-এর নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা ৮৮।অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখ-ের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ওরফে আবু মাজেব। প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়েদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রিয়াদ আল মালিকী।পশ্চিম তীরে ২০০৯ সালে সীমিত পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরায় শুরু হয়। তবে জীবনযাত্রার মান ২০০০ সালে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরুর আগ পর্যন্ত যেমনটা ছিল তা বর্তমানে তার চেয়েও খারাপ।ইসরাইলের অবরুদ্ধ করে রাখা নীতির কারণে জীবন-যাত্রার মানের অবনতি ঘটে। এ অবরোধের কারণে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ হয়, তৈরি শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে পড়ে। অধিক জনসংখ্যা, সীমিত ভূমি এবং আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর নিয়ন্ত্রণে গাজার অর্থনৈতিক অবস্থা পশ্চিম তীরের চেয়েও খারাপ থাকে। গাজা-মিশর সীমান্তের নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ পথে উভয় দেশের মধ্যে মালামাল ও পণ্য চলাচল করে থাকে। যেটাকে বলা হয় চোরাই পথে বাণিজ্য। ১৯৯৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়। ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে অসলো চুক্তি অনুসারে ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়। অন্তর্বর্তী চুক্তি (১৯৯৫) ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে আইনগত, নির্বাহি ও বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা দেয়। এর ফলে ১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম প্রেসিডেন্ট ও আইন সভার নির্বাচন করা সম্ভব হয়। ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ জানুয়ারি মাহমুদ আব্বাস প্রেসিডেন্ট হন। তিনি ইয়াসির আরাফাতের স্থলাভিষিক্ত হন। ২০০৪ সালের নভেম্বরে ইয়াসির আরাফাত ইন্তেকাল করেন। ফিলিস্তিনে আইনসভা বা সংসদ নির্বাচন প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি। ১৩২ আসনের মধ্যে হামাস পায় ৭৪টি। ইতিমধ্যে শুরু হয় হামাস ও ফাতাহ দলের মধ্যে সহিংস সংঘাত। দীর্ঘদিন চলে এই সংঘাত। ২০০৭ সালের জুন মাসে হামাস গাজার দখল নেয়। প্রেসিডেন্ট আব্বাস ঐক্য সরকার বিলুপ্তির মাধ্যমে হামাসকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার গঠন করেন।পশ্চিম তীরের আয়তন ৫ হাজার ৮শ' বর্গ কিলোমিটার। ১৩০ কিমি দীর্ঘ ও ৪০-৫০ কিমি প্রশস্ত। পার্বত্য এলাকা, তবে এবড়ো-খেবড়ো সমতল ভূমিও রয়েছে। দক্ষিণে মরুভূমি থেকে এই অসমতল ভূমি সবুজ প্রান্তরে রূপ নিয়ে তা উত্তরেও ছড়িয়ে গেছে। জেরিকো ও পীত সাগর (ডেড সি) পশ্চিম তীরে'র ভূখ-। মাসার রোডে দাঁড়িয়ে এখানকার আশে-পাশের দৃশ্যগুলোয় নজর রাখছিলাম। মনে মনে একজন গাইড খুঁজছি। স্থানীয় লোক হলে ভালো হয়। ফিলিস্তিনে আসব এরকম একটা ইচ্ছা অনেক দিন ধরেই ছিল। কিন্তু সুযোগ হয়ে উঠছিলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউটে অনেক বিদেশি ছাত্র লেখাপড়া করে। ফিলিস্তিনের কোন ছাত্র আছে কিনা খোঁজ নিলাম। পেয়ে গেলাম দু'জনকে। এদের একজন হলো আজিজ হেলালী। কথায় কথায় জানতে পারলাম ওর বাড়ি পশ্চিম তীরে। গ্রামের নাম আওয়াতা। নাবলুসের কাছে। আজিজীকে আমার ফিলিস্তিন ভ্রমণের ইচ্ছার কথা জানাতে ওর কাছ থেকে অনেকটাই সহযোগিতা পেলাম। ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে আজিজীর বেশ চেনা-জানা আছে। ভিসা পেতে ঝামেলা হলো না। তবে সমস্যা হলো ফিলিস্তিনে পেঁৗছানো। ইউরোপ বা পশ্চিম দেশগুলোর মানুষ সাধারণত ইসরাইল হয়ে ফিলিস্তিন ভূখ-ে ঢোকে, কিন্তু বাংলাদেশের সাথে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় ওপথ বন্ধ।আজিজী আমাকে পথ বাতলে দিলো। সবচেয়ে ভালো হয় জর্দান হয়ে যাওয়া। জর্দানের সাথে ফিলিস্তিন সীমান্ত বলা যায় সব সময়েই উন্মুক্ত। তার মানে এই নয় ইচ্ছা করলেই সীমান্ত পার হওয়া যায়। চেকিং আছে বিভিন্ন স্থানে। বলা যায় শক্ত চেকিং। তবে জর্দানে ফিলিস্তিনীর সংখ্যাও অনেক। যাদের আত্মীয়-স্বজন গাজা কিংবা পশ্চিম তীরে থাকে। সে কারণে উভয় দেশের মধ্যে যাতায়াত অনেকটা খোলামেলা। জর্দান থেকে খাদ্য-পণ্য ফিলিস্তিনে যায়। এছাড়াও জরুরি সরবরাহের অনেকটাই ফিলিস্তিনীরা জর্দান নির্ভর। কিন্তু সীমান্তে গিয়ে আমার ধারণা একদম পাল্টে গেলো। ফিলিস্তিনে যেতে হলে জর্দান হয়ে যাওয়াই ভালো। কিন্তু ভিসা? দেখা যাক। ফিলিস্তিনের ভিসা যখন পেয়েছি, আর সে সাথে বেশ কয়েকটি দেশ সফর করা আছে, সম্ভবত ভিসা পাওয়া যাবে। ঢাকায় জর্দানের দূতাবাস নেই। ফিলিস্তিন দূতাবাসে যোগাযোগ করলাম। ওরা চেষ্টা করবে বললো। শেষমেষ ট্রাভেল এজেন্টকে বললাম। ওরা আশ্বাস দিলো ভিসা করিয়ে দেবার। সম্ভবত মিসরের দূতাবাস জর্দানের ভিসার কাজ করে। সপ্তা খানেক পরে ভিসা পেলাম এবং সেখানে কাতার এয়ার ওয়েজের টিকেট আম্মান পর্যন্ত। সরাসরি আম্মান ফ্লাইট নেই। তবে দোহা থেকে আম্মান ফ্লাইট রয়েছে। দিন তিনেক লাগলো প্রস্তুতি শেষ করতে। দোহায় এর আগেও গেছি। সেকারণে একটু পরিচিত আছে। দোহায় পেঁৗছুলাম রাত সাড়ে ৪টায়। ঢাকায় আধাঘণ্টা লেট ছিল। আধাঘণ্টা পরে রয়াল জর্দান এয়ার লাইন্সের একটা ফ্লাইট ধরিয়ে দিলো কাতার এয়ার ওয়েজ। প্রায় ২ ঘণ্টা লাগলো আম্মান পেঁৗছাতে। ঢাকার সময় সকাল ৭টায় আম্মান কুইন আলিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নেমে দেখলাম ভোরের দেখা নেই। স্থানীয় সময় দেখলাম রাত ৪টা বাজে। বিমান বন্দর ক্লিয়ারেন্স পেলাম আধা ঘণ্টা পর। কাউকে চিনি না, অচেনা এক শহরে পা রেখেছি। যাবো ফিলিস্তিন সীমান্তে। আজিজী বলেছিলো বিমান বন্দরের খুব কাছেই আল নাহাদা বাস স্ট্যান্ড। ওখান থেকে সরাসরি বাস আছে ফিলিস্তিন-জর্দান সীমান্ত শহর আল শুনেহ আল শামালিয়া পর্যন্ত। তবে তার আগে সকাল হওয়া পর্যন্ত আমাকে বিমান বন্দরেই অপেক্ষা করতে হবে। এখানে ২টা টর্মিনাল রয়েছে। একটি ব্যবহার করে রয়াল জর্দান। অপরটি অন্যান্য এয়ারলাইন্স।বিমানবন্দর ওয়েটিং লাউঞ্জ একেবারে পাতালে। চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে দেখলাম বিশাল লাউঞ্জ। তেমন ভিড় নেই। অনেককেই দেখলাম সোফায় লম্বা হয়ে শুয়ে নাক ডাকছে। ফাঁকা একটা সোফা দেখে আমিও শুয়ে পড়লাম লাগেজ মাথায় দিয়ে। লাগেজ টানা পার্টি এখানে আছে বলে মনে হয় না। আধাঘুম অবস্থায় স্থানীয় সময় সকাল ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। নাস্তা করা লাগবে, স্থানীয় মুদ্রা অর্থাৎ দিনার নেই, ডলার রয়েছে। বিমান বন্দর ফ্রেশ রুম থেকে বেরিয়ে বাইরে এলাম সাড়ে ৭টায়। বিমান বন্দর থেকেই আল-নাহাদা বাস স্ট্যান্ডের খবর নিয়েছিলাম। সেখানে কিছু ডলার ভাঙিয়ে দিনার নিয়ে নিলাম। লম্বা পাউরুটি আর দুম্বার গোশত দিয়ে নাস্তা করলাম। আম্মান থেকে সোজা ৭০ কি.মি. পশ্চিমে একটি সীমান্ত। কিং হোসেন ব্রিজ। আল শুনেহ শহর। ১ ঘণ্টা লাগলো। আল শুনেহ'র আরেকটি নাম নর্থ সুনেহ। এখানে বাস থেমে গেলো। শুরু হলো ফিলিস্তিন সীমান্তে ঢোকার প্রাথমিক পর্ব। জর্দান সীমান্ত পার হতে এতগুলো নিরাপত্তা স্তর পার হতে হয় যে, তা কল্পনাও করা যায় না। আমরা ফিলিস্তিনের যাত্রী সব মিলিয়ে তিরিশ জন। প্রথমেই ঢুকতে হলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ অফিসে। অর্থাৎ বর্ডার কন্ট্রোল স্ট্রাকচার (বিসিএস)-এ। সেখানে জর্দানী এক পুলিশ কর্মকর্তা কাগজপত্র প্রাথমিক পরীক্ষা করলেন। পরে গাড়িটিকে সামনে এগুনোর ছাড়পত্র দিলেন। বিসিএস এলাকার শেষ সীমানায় দ্বিতীয় পুলিশ অফিসার পুনরায় কাগজপত্র পরীক্ষা করে একটি ডিপার্চার সিস্নপ হাতে ধরিয়ে দিলেন। এখানে বাস থেকে নেমে যেতে হলো। সিস্নপ হাতে নিয়ে পুলিশ অফিসারকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে জর্দান সীমান্ত পুলিশের কাছে লাগেজ হস্তান্তর করতে হলো। এর পর গলি মতো একটি পথ দিয়ে এগিয়ে একটি কাউন্টার থেকে বাস টিকেট কিনতে হলো। তারপরে টার্মিনালে ঢুকলাম। এখানে একজন জর্দানী পুলিশ হাতে একটি নাম্বার ধরিয়ে দিলো। এরপর একটি মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে ওপাশে যেতে হলো। অর্থাৎ প্যাসেঞ্জার হল বা যাত্রী লাউঞ্জে প্রবেশ করলাম। সামনেই যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, সেখানে দাঁড়ালাম। এর আগে হাতে ধরিয়ে দেয়া ডিপার্চার সিস্নপটা পূরণ করতে হলো। এর পরে হলের সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম ও নাম্বারের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। নাম্বার ডাকার পরে এগিয়ে একজন সাদা পোশাক পরা অফিসারের সামনে গেলাম। তিনি ভ্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র, পাসপোর্ট, বর্ডার ডকুমেন্ট ও ডিপার্চার সিস্নপ নিয়ে নিলেন। একটি কম্পিউটারে সব ডাটা রেখে দিলেন। ডিপার্চার সিস্নপে স্ট্যাম্প মেরে যাবতীয় কাগজপত্র একটি ছোট্ট জানালা গলিয়ে ইউনিফর্ম পরা এক পুলিশ অফিসারকে দিলেন। তিনি তার কম্পিউটারে যাবতীয় ডাটা আবার ঢুকিয়ে রাখলেন। এরপর পাসপোর্টসহ কাগজপত্রগুলো ফেরত দেয়া হলো। সেখান থেকে আরেকটি হলে প্রবেশ করে বাসের অপেক্ষায় থাকলাম। যে বাসটি আমাদেরকে ফিলিস্তিন ভূখ- পর্যন্ত নিয়ে যাবে। হলে অপেক্ষার সময় আমার লাগেজ পেঁৗছালো। এরপর লাগেজটি বাসের লাগেজে তুলে দিয়ে বাসে উঠলাম।বাসে উঠে বসার পর একজন জর্দানী পুলিশ অফিসার এলেন। প্রত্যেক যাত্রীকে চেক করলেন এবং ডিপার্চার সিস্নপের উপরের অংশটি নিয়ে নিলেন। বিশাল একটা মেটাল সেট খুলে দেয়া হলো। বাসটি ফিলিস্তিনের দিকে যাত্রা করলো। পথিমধ্যে ৩টি চেক পয়েন্টে থামলো। তিনবার চেক হলো। প্রায় ১শ' মিটার এগিয়ে বাসটি জর্দান নদীর কাছে থামলো। সেখানে আরেক জর্দানী পুলিশ অফিসার বাসে উঠে ডিপার্চার সিস্নপের দ্বিতীয় অংশটি নিয়ে নিল।এরপর বাসটি ফিলিস্তিন সীমান্তের দিকে এগিয়ে গেলো। মনে মনে খুশি হয়েছিলাম। বাঁচা গেল। এবার সোজা ফিলিস্তিন ভূখ-ে। আর চেক পয়েন্টে ফিলিস্তিন পুলিশ কিংবা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা থাকবেন। কিন্তু তা নয়। বাস এসে থামলো ইসরাইলি চেক পয়েন্টে। এটা প্রথম চেক পয়েন্ট, কিন্তু চেক পয়েন্টে ইসরাইলি পুলিশ কেন? ফিলিস্তিনিরা কোথায়? কিছুক্ষণ পরে বিস্ময়টা পরিষ্কার হলো। ফিলিস্তিন ভূখ-ে ঢুকতে সব সীমান্তেই ইসরাইলি চেক পোস্ট। এরাই ফিলিস্তিনে ঢোকার ছাড়পত্র দেবে। কিছুসময় বাসটি দাঁড়িয়ে থাকলো। পরে একজন ইসরাইলি পুলিশ বেরিয়ে এসে যাত্রীদের চেক করলো। পরে বাসটি কয়েক মিটার সামনে এগিয়ে পার্ক করলো। এখানে সকল যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে আনা হলো সবার হাতে পাসপোর্ট ও ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র। এক ইসরাইলি সৈন্য সব যাত্রীর পাসপোর্ট ও কাগজপত্র পরীক্ষা করলো। যাত্রীরা সব নেমে আসার পর এক ইসরাইলি সৈন্য বাসটিতে উঠে গেলো এবং তর তর করে বাসটি তল্লাশি করলো। পরে আমরা বাসে উঠলাম। এখান থেকে বাসটি ছেড়ে আরো কয়েকমিটার এগিয়ে থেমে গেলো। আরেকটি চেক পয়েন্ট। রাস্তার এক পাশে বাস থামলো। আমরা আবার সবাই নেমে এলাম। আরেক দফা চেক হলো। বাসটিতেও তল্লাশি চললো। এভাবেই তৃতীয় চেক পয়েন্ট পার হলাম। ইসরাইলি সৈন্য আমাদের বাসটিকে হাত ইশারায় নীল সংকেত দিলো। এখান থেকে বাসটি এবার চললো প্রধান টার্মিনালের দিকে। সেখানে যাত্রীদের সবাইকে বাসে বসে থাকতে বলা হলো। পাক্কা ১৫ মিনিট যাত্রীরা সবাই বসে রইলো। আমেরিকার তৈরি এম-১৬ রাইফেলধারী সাদা পোশাকের এক লোক বাস ড্রাইভারকে হাত ইশারায় নেমে আসতে বললো। সেখানে আমরা সবাই বাস থেকে নেমে এলাম। যার যার লাগেজ একটি ট্রলিতে নিয়ে এগুতে লাগলাম লাগেজ চেকিং কাউন্টারের দিকে। পাসপোর্ট ও লাগেজ তুলে দিলাম একজন সীমান্ত রক্ষীর হাতে। পাসপোর্টে একটি স্টিকার লাগিয়ে সেটি ফেরত দিলো। এরপর টার্মিনালের শেষ প্রান্তে পেঁৗছলাম। এখানে একটি মেটাল ডিটেক্টর রয়েছে, সেখান থেকে অতিক্রম করে মেইন হলে ঢুকে লাইনে দাঁড়ালাম। একজন ইসরাইলি সীমান্ত পুলিশ যাবতীয় তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করলো। সেখান থেকে লাগেজ হলে গেলাম। লাগেজ হলে দু'দফা চেকপয়েন্ট পার হতে হলো। একটি হলো লাগেজ নিরাপত্তা বিভাগ, দ্বিতীয়টি সীমান্ত পুলিশ। এসবের পরে লাগেজ খুঁজে নিয়ে কাস্টমস চেকিং শেষ করে টার্মিনালের বাইরে একটি ইয়ার্ডে গিয়ে দাঁড়ালাম।এই ইয়ার্ড থেকে একটি বাস টিকেট কিনে বাসে উঠলাম। এরপর জেরিকোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার পালা। বাসটি ওই ইয়ার্ড ছেড়ে পাঁচ মিনিট চলার পর আরেকটি বিরাট ভবনের গেটে গিয়ে দাঁড়ালো। এটা হলো ফিলিস্তিনী সীমান্ত পুলিশ ভবন। ফিলিস্তিনী একজন পুলিশ কর্মকর্তা বাসে উঠে যাত্রীদের সবার কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে নেমে গেলেন এবং ১৫ মিনিটের জন্য উধাও। পরে ফিরে এসে পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে নেমে গেলেন। এখান থেকে জেরিকো ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পথ।হ



« পূর্ববর্তী সংবাদ
কাছে দূরে - এর আরো খবর
আয়ের অর্ধেক জমান গিলানি
ধোঁকাবাজি ঠেকাবে অদৃশ্য রাজকন্যা!
নগ্নদের শরীরচর্চা কেন্দ্র
হোম ¦ শীর্ষ প্রতিবেদন ¦ কড়চা ¦ অপ্রিয় বচন ¦ বিশেষ প্রতিবেদন ¦ সদর-অন্দর ¦ ন্যায়-অন্যায় ¦ মুক্ত মঞ্চ ¦ কাছে দূরে ¦ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ¦ খেলাধুলা ¦ আন্তর্জাতিক ¦ প্রবাস ¦ সুন্দর জীবনের জন্য ¦ রদবদল ¦ জানা-অজানা ¦ সম্পাদকীয়
2011 © Copyright to SheershaNews.Powered By : orangebd