|
 |
¦ |
|
|
| |
চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির নেতাদের দাপটে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক এবং সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তাদের অবৈধ কর্মকা-ের কারণে এখানকার রোগীদের চিকিৎসায় ভোগান্তি হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য সিট পেতে হলে সমিতির নেতা এবং তাদের অনুসারীদের অর্থ দিতে হয়। কর্তৃপক্ষের ওপর অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে এ সমিতির নেতারা হাসপাতালের ৫টি কক্ষ দখলে রেখেছেন। এমনকি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে তাদের দখলে নেয়া হাসপাতালের দু'টি কক্ষ সংস্কারের উদ্যোগ নেন এবং দেয়ালও ভেঙে ফেলেন। সূত্র জানিয়েছে, কক্ষ দু'টি দোকান হিসেবে ভাড়া দেয়ার জন্যই তারা উন্নয়নমূলক কাজের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে তারা বাধা দেয়। কর্তৃপক্ষের বাধার কারণে ভাঙার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। তবে হাসপাতালের কক্ষ ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যাতে কোন ব্যবস্থা না নেয়া হয় তার জন্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে কর্মচারী নেতারা। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল সাফি মজুমদার এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পরিচালক পদে দায়িত্ব নিয়েছি। ঘটনার দিন গত ১৭ মার্চ আমি হাসপাতালে ছিলাম না। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বাইরে একটি প্রোগ্রামে ছিলাম। কর্মচারী সমিতির সদস্যরা হাসপাতালের ১৮ এবং ১৯ নম্বর কক্ষের দেয়াল ভেঙেছেন এই খবর প্রোগ্রামে থাকা অবস্থায় জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, হাসপাতালের কোন উন্নয়নমূলক বা সংস্কার কাজ করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারো হাতে নেই। কিন্তু তারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে সংস্কারের নামে হাসপাতালের দেয়াল ভেঙেছে। আমি তা স্থগিত করে রেখেছি। তদন্ত কমিটিও গঠন করেছি। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।প্রশাসনের উপর হস্তক্ষেপ করে চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি প্রথমে হাসপাতালের বেইজমেন্টের ১৩ এবং ১৪ নম্বর বরাদ্দ নেয়। গত বছর জুনে সমিতির নির্বাচনে মো. শহীদুল ইসলাম সভাপতি এবং মো. আহসান হাবিব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। শহীদ-হাবিব নেতৃত্বাধীন কর্মচারী সমিতি হাসপাতালের বিগত পরিচালক অধ্যাপক আবুল হোসেইন খান চৌধুরীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ১৭ নম্বর কক্ষ (দক্ষিণ বস্নকের নিচ তলার পশ্চিম পাশের ৬ নম্বর গেটের ডান দিকের খালি জায়গা সংলগ্ন পূর্ব দিকের কক্ষ) দখলে নেয়। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ কমিটির সুপারিশ না নিয়ে তৎকালীন পরিচালক একক সিদ্ধান্তে তাদের বরাদ্দ দেন। হাসপাতালের নকশা অনুযায়ী এই কক্ষটিতে পোস্ট অফিস বসানোর কথা ছিল। তবে ১৮ এবং ১৯ নম্বর কক্ষ বরাদ্দের জন্য সমিতি থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনই করা হয়নি। অবৈধভাবে কক্ষ দু'টি দখল করে শহীদ-হাবিব নেতৃত্বাধীন সমিতির সদস্যরা। হাসপাতালের নকশা অনুসারে চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের দখলে নেয়া ১৮ নম্বর কক্ষটিতে ফলমূলের দোকান এবং ১৯ নম্বর কক্ষটিতে গিফট সামগ্রীর দোকান দেয়ার কথা। আর এগুলো পরিচালিত হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে। কিন্তু সমিতির নেতারা এগুলো দখলে নিয়ে নিজেরাই ভাড়া দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির সভাপতি শহীদুল ইসলাম শীর্ষ কাগজকে বলেন, আগের পরিচালক ১৮ এবং ১৯ নম্বর রুম সমিতিকে বরাদ্দ দিয়েছেন। তাই সেখানে বসার উপযোগী করার জন্যই তারা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। কক্ষ দু'টি আপনাদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এমন কোন কাগজপত্র দেখাতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শহীদুল ইসলাম বলেন, তখন নম্বর পড়েনি তাই কক্ষের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে কক্ষ সংস্কার কাজের নামে হাসপাতালের দেয়াল ভাঙা অন্যায় নয়কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা রুমে বসার উপযোগী করে তুলতে চেয়েছিলাম মাত্র।জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী নেতারা হাসপাতাল থেকে ওই দোকানগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালের পানিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দিয়ে মাসোহারা নিচ্ছে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির নেতা এমনকি সদস্যরাও। কিন্তু বিলের বোঝা টানতে হচ্ছে সরকারকে।- বিশেষ প্রতিবেদক