ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মে ২০১১. ২০ বৈশাখ ১৪১৮, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩২

¦
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে দুর্নীতি-টেন্ডারবাজি

দুর্নীতি ও অনিয়মের মহা-আখড়ায় পরিণত হয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি)। টেন্ডারবাজ আর অস্ত্রবাজদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এক শ্রেণীর প্রকৌশলী এবং কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে উঠা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে গোটা শিক্ষাখাতের উন্নয়ন কর্মকা-। এই সিন্ডিকেটের কারণে শিক্ষাভবনে সৃষ্টি হয়েছে ত্রাসের রাজত্ব। পছন্দের ঠিকাদারকে মোটা কমিশনের বিনিময়ে কাজ প্রদান, সর্বনিম্ন দরদাতাকে ধরে এনে টেন্ডার প্রত্যাহার করানো, প্রকল্প পিছিয়ে দেয়ার মাধ্যমে সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা, নামেমাত্র নির্মাণ কাজ করা, ভুতুড়ে প্রকল্পের ওপর বিল তৈরি করে টাকা আত্মসাতসহ হেন কাজ নাই যা করছে না। আর এই অপকর্ম করতে গিয়েই শিক্ষা ভবনে এখন চলছে সশস্ত্র মহড়া-পাল্টা মহড়া। কাজ বাগিয়ে নেয়া এবং পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেয়া নিয়ে গত ১৭ এপ্রিল সেখানে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপে সংঘর্ষ পর্যন্ত হয়েছে। এতে ৪ জন আহত হয়।জানা যায়, ইইডি'র প্রধান প্রকৌশলীসহ নির্বাহি প্রকৌশলীরা বিশেষ করে নির্বাহি প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা এবং সামসুল হুদার বিরুদ্ধেই অভিযোগ বেশি। তারা সরকারি উন্নয়নের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের আখের গোছানোর ধান্ধায় লিপ্ত রয়েছেন। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মাধ্যমে যাকে তাকে প্রদান করছেন প্রকল্পের কাজ। তেমনি চাহিদা মতো অর্থ না পেলে উন্নয়ন কর্মকা- স্থগিত রাখতে বা বিলম্বিত করতেও দ্বিধাবোধ করছেন না তারা। ফলে একদিকে সাধারণ ঠিকাদাররা কাজ পাচ্ছেন না এবং কমিশন দেয়ার মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেয়ার কারণে নামেমাত্র উন্নয়ন হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ছে। এরফলে বর্তমান সরকারের আমলে গৃহীত উন্নয়নের কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। সরকারের ক্রেডিটের ঝুলি শূন্য হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতিবাজদের এ ধরনের অপতৎপরতা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে জমা পড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়েই অন্তত ডজন খানেক অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ইইডি'তে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নাম ধরে কয়েকজন দুর্নীতিবাজের নাম উচ্চারণ করেন। এছাড়া গত ৬ ও ১৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি সংক্রান্ত বৈঠকেও শিক্ষামন্ত্রী প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। কিন্তু এরপরও যেমন অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে, তেমনি এখনও ওইসব কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আবার বিপরীত দিকে যাদের নাম দুর্নীতিবাজ হিসেবে উল্লেখ করেন নি, তাদের পোয়াবারো অবস্থা। এখন জানান দিয়ে দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছেন তারা।ইইডি'তে মোট ৯ জন নির্বাহি প্রকৌশলী রয়েছেন। এদের মধ্যে দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা এবং সামসুল হুদার বিরুদ্ধেই অভিযোগ বেশি। এতো নির্বাহি প্রকৌশলী থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ প্রকল্পের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দেওয়ান হানজালাকে। তিনি একাই সাড়ে ১৮শ' কোটি টাকার কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে, শিক্ষা বোর্ডসমূহের উন্নয়ন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামত, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, মওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, ৩০৬ মডেল বিদ্যালয়, নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের উন্নয়ন, রাজউক মডেল কলেজের ভবন নির্মাণ, ৬৯ পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ নির্মাণ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ। এর বাইরে এলটিএম এবং ওটিএমের আওতায় বিভিন্ন ক্রয়, ইইডি'র আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার কাজ হিসেবে বাজেট প্রণয়ন, অর্থ ছাড়করণ, ব্যয় নিশ্চিতকরণ, অডিট নিষ্পত্তিকরণ ইত্যাদি রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, অন্যান্য কর্মকর্তাদের বসিয়ে রেখে কেন এবং কিসের জোরে তিনি এতগুলো প্রকল্পের এবং অফিসিয়াল অন্যান্য দাপ্তরিক কাজও পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এক্ষেত্রে ইইডির প্রধান প্রকৌশলী রহস্যজনক কারণে পক্ষপাতমূলক দায়িত্ব বন্টন করেছেন। দেওয়ান হানজালার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, তিনি সর্বনিম্ন দরদাতাকে অনেক ক্ষেত্রে কাজ দেন না। আবার মূল দরেই (অ্যাস পার) অনেককে কাজ দিয়ে দেন। ৩০৬ মডেল স্কুলের একটি কাজে খসরু নামে এক ঠিকাদার সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছেন। গত ৩ এপ্রিল ওই ব্যক্তিকে নিজ দফতরে ডেকে এনে সন্ত্রাসীদের দ্বারা পিটুনি খাইয়েছেন দেওয়ান হানজালা। এ সময় খসরুর কাছে থাকা আড়াই লাখ টাকাও লুট হয়ে যায়। এ ব্যাপারে মোবাইলে জানতে চাইলে খসরু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, থানায় দেওয়ান হানজালার নামে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। মওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ কোটি টাকার দু'টি কাজের টেন্ডার সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে পায়নি জনৈক ভাওয়াল কন্সট্রাকশন্স। এনিয়ে সালিশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন পর্যন্ত পেঁৗছেছিল।শিক্ষামন্ত্রীর দফতরে আসা এক অভিযোগ পত্রে দেখা গেছে, ৩০৬ মডেল স্কুলের মধ্যে ১৫০টির টেন্ডার করে ফেলার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা সম্পন্ন করা হয়নি। এর পেছনে পছন্দের ঠিকাদার না পাওয়া বা দরদামে না মেলার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সরকারের উন্নয়ন কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। বাড়াতে হবে প্রকল্পের মেয়াদ, যা বর্তমান সরকারের সময়ে শেষ নাও হতে পারে। একই ঘটনা ঘটছে ৬৯টি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের একাডেমিক ও ছাত্র-ছাত্রী হল নির্মাণের ক্ষেত্রেও। ৩ হাজার বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজও স্থগিত রাখা হয়েছে। এর পেছনেও দর কষাকষি এবং সরকারকে ব্যর্থ করার অপপ্রয়াস রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই নির্বাহি প্রকৌশলী নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামধারী কিছু ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়ে থাকেন। সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ তার দফতরের সামনে পাহারা বসিয়েছে। এছাড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী এক এমপির নিকটাত্মীয় রয়েছেন যাদের তিনি সুবিধা দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিয়ানীবাজারের ওই যুবলীগ নেতা শিক্ষামন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে থাকেন।এদিকে গত ১৮ এপ্রিল ৩০৬ মডেল স্কুল প্রকল্পের ১০০ স্কুলে কম্পিউটার সরবরাহের কাজে টেন্ডার হয়েছে। জানা গেছে, ওই কাজে প্রকল্প পরিচালক কেএম রফিকুল ইসলাম পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করছেন। এনিয়ে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী অন্য ঠিকাদাররা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।ওদিকে আরেক নির্বাহি প্রকৌশলী সামসুল হুদার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মিটিংয়ে স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন। তাকেসহ আরও কয়েকজনকে শিক্ষামন্ত্রী ওই সভায় ভর্ৎসনাও করেন। কিন্তু তারা এখনও বহাল তবিয়তে আছেন। সামসুল হুদার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার তত্ত্বাবধানে ২০০৯ সালের শেষের দিকে নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন (সরকারি ও বেসরকারি) প্রকল্পের অধীনে টাঙ্গাইল জেলার বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে দু'টি উন্নয়নমূলক কাজ দেখানো হয়। এরমধ্যে ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩২ সিটের একটি ২তলা হোস্টেল নির্মাণ কাজ হয়। একই বিদ্যালয়ের বিদ্যমান পুরাতন হোস্টেল ভবনের মেরামত কাজের ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। কিন্তু মাউশি জানতে পায়, ওই বিদ্যালয়ে আগে কোন পুরাতন হোস্টেল ভবন ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ইইডি'র তৎকালীন সহকারী পরিচালক আশরাফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি তদন্ত করে ওই বিদ্যালয়ে পুরাতন হোস্টেলের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাননি। তার বিরুদ্ধে এছাড়াও আরো বেশকিছু দুর্নীতির অভিযোগ এখন তদন্তাধীন রয়েছে।আরো যত অভিযোগ ইইডি'র সার্বিক বিষয় নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুল নকশায় একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠে। ওই ভবনে কোনো বাথরুম তৈরি করা হয়নি। বাথরুম তৈরির জায়গাও রাখা হয়নি। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর দায়িত্বহীনতা ও অদক্ষতার জন্য সভায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়নে ইইডি'র মাধ্যমে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিয়েও সভায় প্রশ্ন তোলা হয়। সভায় জানানো হয়, ২০০৮ সাল থেকে এসইএসডিপি'র অধীনে বিভিন্ন জেলার ২৫৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শ্রেণী কক্ষ নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ বিদ্যালয়ের সংস্কার কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়েছে। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ নকশায় কাজ করতে থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়নি। দায়সারাভাবে এগুচ্ছে নির্মাণ কাজ। নেই কোনো মনিটরিং। জানা যায়, বেসরকারি স্কুলের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দ আছে ২০ কোটি টাকা। কিন্তু এখাতে টেন্ডার করা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। আর সরকারি স্কুল ও কলেজ ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দ আছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এর জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছোট-খাটো মেরামতের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ১৫ কোটি টাকা। কিন্তু এ কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।এদিকে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১২শ' কোটি টাকার টেন্ডার কার্যক্রম চলমান আছে। শিগগিরই আরো কয়েকটি প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এরমধ্যে আছে ৩ হাজার স্কুলের উন্নয়ন প্রকল্প, ১ হাজার মাদ্রাসার সংস্কার প্রকল্প এবং ১ হাজার ৫০০ কলেজের উন্নয়ন প্রকল্প। এসব প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিতে ছাত্রলীগের একাধিক গ্রুপ নিয়মিত ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ইইডি্থতে মহড়া দিচ্ছে। ছাত্রলীগের মহড়া: যে কোন মুহূর্তে সংঘর্ষএভাবে শিক্ষা বিভাগের শ' শ' কোটি টাকার টেন্ডার দখল নিয়ে ছাত্রলীগের গ্রুপগুলো মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাভবন ও নায়েমে যে অবস্থা তাতে যেকোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষাভবনে সন্ধ্যা নামলেই ক্যাডারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার শীর্ষস্থানীয় টেন্ডারবাজ ও ক্যাডারদের তৎপরতায় শিক্ষাভবনে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসা এক অভিযোগে দেখা গেছে, এসব ক্যাডারদের মধ্যে শফিক-মিজান গ্রুপ এবং সাইফুল-রনি গ্রুপ অন্যতম। সাইফুল-রনি গ্রুপকে মদদ দেন নির্বাহি প্রকৌশলী হানজালা। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক শিবির ক্যাডার ও বর্তমানে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল টেন্ডার বাগিয়ে নিতে ৩০/৪০ ক্যাডার নিয়ে সন্ধ্যার পর একসঙ্গে মহড়া দেন। এই গ্রুপে শিবির ও ছাত্রদলের ক্যাডার বেশি রয়েছে। বিপরীত দিকে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক মিজান। এছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার কবির, সহ-সভাপতি দেওয়ান রাজিব ওরফে ভাইগ্না রাজিব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের পোষ্যরাও নিয়মিত শিক্ষাভবনে মহড়া দিচ্ছেন। নায়েমে মহড়া দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক সভাপতি অনু ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রানার বাহিনী। গত ১৭ নভেম্বর শিক্ষাভবনে এই বাহিনীর সঙ্গে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অলক-বণিক গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। সব গ্রুপই নিয়মিত ভাড়াটে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ইইডি্থতে মহড়া ও শক্তির জানান দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে নায়েমে গত ১৮ এপ্রিল ১ কোটি টাকার একটি টেন্ডার ছাড়ে। কিন্তু ছাত্রলীগ ক্যাডাররা সাধারণ ঠিকাদারদের সিডিউল কিনতে না দেয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেওয়ান মুহাম্মদ হানজালা টেন্ডারের পেছনে বিভিন্ন হস্তক্ষেপ ও গ্রুপিংয়ের কথা স্বীকার করেন। তবে এটি সম্পূর্ণ অফিসের বাইরের ঘটনা। এতে অফিসের কর্মকর্তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তিনি দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এ ধরনের কাজ আমার দ্বারা সম্ভব নয়। একটি মহল চক্রান্ত করে আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে ইইডি্থর প্রধান প্রকৌশলী মিজানুল করিমের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার কার্যালয়ে এসে যোগাযোগ করার কথা বলেন। তিনি বলেন, টেন্ডারবাজদের বিষয়ে তথ্য দেয়ার জন্য নির্বাহি প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপরে উল্লেখিত অভিযোগগুলো পুরোপুরি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।হ



বিশেষ প্রতিবেদন - এর আরো খবর
ডিসিসি'র কচুরিপানা পরিষ্কারের নামে অর্থ লোপাট
টিসিবি কি সচল হবে?
ওরিয়নের আরেক দুর্নীতির নজির
অতিরিক্ত জেলা জজ পদে ১৩ বিচারকের পদোন্নতি কার্যকর হচ্ছে না যে কারণে
তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে নতুন ফর্মুলায় বিতর্ক তুঙ্গে
গৃহায়নের ২৯ প্লট দখলের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ : কমিটি গঠন
পদ্মা সেতুর ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের নামে যা হচ্ছে হাবিবুল্লাহ ফাহাদ
হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধাকে এবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ!
রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে ইমামদের ব্যবহার
দু'টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে রহস্য!
হৃদরোগ হাসপাতালে কর্মচারী নেতাদের দাপট
অবশেষে সচিবালয়ের আলোচিত সুবেদার রাজারবাগে
৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর সমাজ বইয়ে ভুল
৫ ইস্যুতে বিপাকে মহাজোট সরকার
পুলিশ পরিদর্শক ওমর ফারুকের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক
সম্ভাবনাময় গ্যাস ক্ষেত্র চলে যেতে পারে বিদেশি কোম্পানির হাতে
ভূমি মতিয়রের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
হোম ¦ শীর্ষ প্রতিবেদন ¦ কড়চা ¦ অপ্রিয় বচন ¦ বিশেষ প্রতিবেদন ¦ সদর-অন্দর ¦ ন্যায়-অন্যায় ¦ মুক্ত মঞ্চ ¦ কাছে দূরে ¦ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ¦ খেলাধুলা ¦ আন্তর্জাতিক ¦ প্রবাস ¦ সুন্দর জীবনের জন্য ¦ রদবদল ¦ জানা-অজানা ¦ সম্পাদকীয়
2011 © Copyright to SheershaNews.Powered By : orangebd